সালাম

মানব ইতিহাসের প্রথম সালাম এবং এর গুরুত্ব ও আদব  

Print Friendly, PDF & Email

Loading

মুসলমানের পারস্পারিক দেখা সাক্ষাতের সময় সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানানোর নিয়ম এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত । সালামের প্রচলন দিন দিন সমাজ থেকে উঠে যাচ্ছে। সমাজে বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে এর ব্যবহার দেখা যায়, যার অধিকাংশ লোক দেখানো। মুসলমান হবে উত্তম চরিত্রের অধিকারী যা তাঁর কাজের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ পাবে।

সালাম অর্থ– শান্তি, কল্যাণ, শুভ কামনা, নিরাপত্তা। ‘সালাম’ কিয়াবাচক বিশেষ্য অর্থ অক্ষত হওয়া। সালাম ক্রিয়াপদ থেকে উৎপন্ন। এর আভিধানিক অর্থ- বিপদ-আপদ কিংবা দোষ ত্রুটি থেকে নিরাপদ থাকা। কুরআন মজিদে শব্দটি শান্তি ও নিরাপত্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইসলামী পরিভাষা-ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা-৭৬  

মানব ইতিহাসের প্রথম সালাম

প্রথম মানব সৃষ্টির পর আল্লাহ্‌ তায়ালা আদমকে পারস্পারিক দেখা সাক্ষাতে একে অপরকে কিভাবে অভিবাদন জানাবে সেটা শিক্ষা দেন। আমরা হাদিস থেকে জানতে পাই

মানব ইতিহাসের প্রথম সালাম

অর্থ- হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী করীম (সা)-এর বরাত দিয়া বলেন: আল্লাহ্ তা’আলা আদমকে সৃষ্টি করিলেন, আর তিনি ছিলেন ষাট হাত দীর্ঘ পুরুষ। তিনি বলিলেন: যাও এবং ঐ যে ফেরেশতার দল বসিয়া রহিয়াছে তুমি তাহাদিগকে গিয়া সালাম দাও এবং তাহারা কি জবাব দেন তাহা শুন। ইহাই হইতেছে তোমার এবং তোমার সন্তানদিগের অভিবাদন।

তিনি গিয়া বলিলেন: ‘আস্সালামু আলাইকুম’ তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হউক। জবাবে তাহারা বলিলেন: ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ “তোমার উপর শান্তি ও আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হউক”। তাহারা রাহমতুল্লাহ শব্দটি যোগ করিলেন। সুতরাং যাহারাই জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাহারা তাহারই আকৃতির হইবে। তৎপর মানুষের আকৃতি খর্ব হইতে হইতে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হইয়াছে।

  আল আদাবুল মুফরাদ (ই.ফা.বা) অনুচ্ছেদ ৪৪৮, হাদিস নং ৯৯০

সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত

বিশ্ব মুসলিম সমাজে সালামের মাধ্যমে পরস্পর পরিচিত হয় সালামের মাধ্যমে। যে যে ভাষার হোক না কেন সালামের মাধ্যমে এক মুসলমান ভাই আরেক ভাইকে তাঁর পরিচয়টা জানাতে পারে। মুসলিম একে অপরের সাথে সাক্ষাতে সালামে এটাই ইসলামের নিয়ম। সালাম শুধু ইসলামি নিয়ম নয় এটা একটা অন্যতম ইবাদত।  

আল্লাহ্‌ আল কুরআনে বলেন-

সূরা নিসা ৮৬ নং আয়াত সালামের

অর্থ- তোমাদেরকে যখন সালাম দেওয়া হয় তখন তোমরা তাঁর চেয়ে উত্তম সালাম দিবে অথবা উক্ত সালামই প্রদান করবে, আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ হিসাব গ্রহণকারী।

সূরা নিসা ৪:৮৬

আমরা হাদিস থেকে সালামের ফজিলত সম্পর্কে জানতে পারি-

ফজিলত সালামের

অর্থ- আবু হুরায়রা (রাঃ)  বলেন , একদা এক ব্যক্তি নবী করীম (সা)-এর নিকট দিয়া যাইতেছিল, তিনি তখন মজলিসে উপবিষ্ট ছিলেন। সে ব্যক্তি বলিল : আস্সালামু আলাইকুম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলিলেন, (এ ব্যক্তির) দশটি নেকী হইল। অতঃপর অপর এক ব্যক্তি ঐ পথ দিয়া অতিক্রম করিল।

সে বলিল : আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ (অর্থাৎ তোমার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক) রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিলেনঃ (এ ব্যক্তির) বিশটি নেকী হইল। অতঃপর অপর এক ব্যক্তি এই পথ দিয়া অতিক্রম করিল। সে বলিল : আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিলেন : এ ব্যক্তি ত্রিশটি নেকী পাইল। এমন সময় এক ব্যক্তি মজলিস হইতে উঠিয়া চলিয়া গেল : আর সালাম করিল না।

তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিলেন : তোমাদের সাথী কত তাড়াতাড়িই না ভুলিয়া গেল (যে সালামের কি মাহাত্ম্য?) যখন কোন ব্যক্তি মজলিসে আসে তখন তাহার উচিত সালাম দেওয়া। তারপর তাহার যদি মজলিসে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয় তবে সে বসিবে আবার সে যখন চলিয়া যাইবে তখনও তাঁহার সালাম দেওয়া উচিত। আগমন ও প্রস্থানের এ উভয় সালামের মধ্যে কোনটাই কোনটার চাইতে বেশি বা কম নহে।(অর্থাৎ উভয় সালামের সফল সাওয়াব ও গুরুত্ব রহিয়াছে।)   

আল-আদাবুল মুফরাদ (ই.ফা.বা), অনুচ্ছেদ৪৫১, হাদিস ৯৯৮, সহীহুত তারগীব ৩/২০

জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ

ফরজ ইবাদত সবাইকে আদায় করতে হবে এর পর নফল ইবাদত বেশি বেশি করতে হবে। কাউকে সালাম দেওয়া সুন্নত কিন্তু সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। জবাব মুখে উচ্চারন করে শব্দ করে দিতে হবে। জান্নাতে যাওয়ার সহজ একটি আমল-

আরবি  ০৪

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন- হে মানুষেরা তোমরা সালামের প্রচলন কর, মানুষকে খাদ্য খাওয়াও, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা রক্ষা কর এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন (তাহাজ্জুদে) সালাত আদায় কর, তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তিরমিজি আস সুনান ৪/৬৫২,আল মুসতাদরাক ৩/১৪, সহিহুত তারগীব ৩/১৪, তিমিযি ও হাকিম হাদিসকে সহিহ বলেছেন।

ইসলামে  সবচাইতে উত্তম কর্ম

আমরা হাদিস থেকে জানতে পারি ইসলামে সর্ব উত্তম অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো কাজ সম্পর্কে রাসূল কি বলেছেন।

ইসলামের সবচেয়ে উত্তম কাজ সালাম

অর্থ- কুতায়বা ( রহঃ)… আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত ,

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি সবচাইতে উত্তম?  তিনি বললেন –তুমি  লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত -অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দিবে।

 বুখারী ২৭ (ই.ফা.বা) , মুসলিম১/১৪, হা.৪২,আবু দাউদ ৫১৯৪, ইবনে মাজাহ ৩২৫৩,  নাসায়ী ৮/১০৭, আহমাদ ৬৭৬৫।

সমাজে দেখা যায় শুধু পরিচিতদেরকে সালাম দেওয়া হয় এবং অপরিচিত কাউকে সালাম দেওয়া হয় না, যা ঠিক না।

অন্য হাদিস থেকে আমরা আরও জানতে পারি-

ভালবাসা সৃষ্টিতে সালাম

অর্থ- আবূ বকর ইবনে আবূ শায়বা (রহঃ)… আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে আর তোমরা ইমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অন্যকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদের তা বাতলে দেব না যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসার সৃষ্টি হবে? তা হলে, তোমরা পরস্পর বেশি সালাম বিনিময় করবে।

মুসলিম ১০০ (ই.ফা.বা) , সুনান ইবনে মাজাহ ২৭/১১ হা.৩৬৯২ ,তিরমিজি ২৬৮৮, আহমাদ ৮৮৪১,৯৪১৬,২৭৩১৪,১০২৭২।  সহীহ

সালামের অফুরন্ত সওয়াবের কারণে সাহাবারা অনেক সময় বাজার যেতেন শুধু মানুষদেরকে সালাম দেওয়ার জন্য।

আনাস বলেন-

আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে থাকতাম। এমতাবস্থায় একটি গাছ যদি আমাদের মাঝে আড়াল করত তবে গাছটি অতিক্রম করার পর আবার আমরা একে অপরকে সালাম দিতাম।

হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/৩৪, আলবানী, সহীহুত তারগীব ৩/১৯, হাদিসটি হাসান

সালামের আদব

সালাম দেওয়ার সময় সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। কে কাকে সালাম দিবে?  এটা ইসলামে বলা আছে। তারপরও যে কেউ যে কাউকে সালাম দিতে পারবে কোন নিষেধ নেই।  

আমরা হাদিস থেকে জানতে পারি-

আরবি-০৭

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে শিবলী বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনিয়াছিঃ সাওয়ারীতে আরোহী ব্যক্তি পথচারী উপবিষ্ট জনকে সালাম দিবে, অল্প সংখ্যক বেশী সংখ্যকগণকে সালাম দিবে। যে ব্যক্তি সালাম দিল সে সালাম  তাহার জন্য আর যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিল না তাহার জন্য কিছুই নাই।

 আল আদাবুল মুফরাদ(বুখারী) ,হাদিস নং ১০০৪ (ই.ফা.বা), সহিহ বুখারি৫৬৮৭( ই.ফা.বা)

অন্য আরেকটি হাদিস থেকে আমরা সালাম সম্পর্কে জানতে পারি-

আরবি -০৮

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আরোহী ব্যক্তি চলন্ত ব্যক্তিকে, চলন্ত ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে, কম বেশিকে, ছোট বড়কে সালাম দিবে।

 বুখারী ৫/২৩০১

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে।

[৬২৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)

ঈমান ভঙ্গের কারণ ১০ টি

মজলিস ত্যাগ করার সময় সালাম দেওয়া

যখন কোন মজলিস থেকে কেউ উঠে যায় তখন তার উচিত সালাম দেওয়া । হাদিস থেকে আমরা এরূপ শিক্ষা পেয়ে থাকি।

আরবি-০৮

হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মজলিসে উপস্থিত হয়, তখন তাহার উচিত সালাম করা । সে যদি মজলিসে বসে এবং অতঃপর মজলিস ভঙ্গের পূর্বেই উঠিয়া যাইবার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তাহার সালাম করিয়া উঠা উচিত। কেননা প্রথম সালাম কোন অংশেই শেষের সালাম হইতে উত্তম নহে। (অর্থাৎ উভয় সালামই সওয়াবের দিক দিয়ে সমান)।

আল আদাবুল মুফরাদ অনুচ্ছেদ৪৬৪, হা.১০২১(ই.ফা.বা)

সশব্দে সালাম দেওয়া

মুসলমানের সালাম হবে সশব্দে যা অন্যরা শুনতে পায়। হাতের ইশারায় সালাম দিতে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

আরবি ০৯

যে ব্যক্তি অন্যদের অনুসরণ করে সে আমাদের সাথে সম্পর্কিত নয়। তোমরা ইহুদী বা খৃস্টানদের অনুসরণ করোনা। ইহুদিদের সালাম হলও হাতের আঙ্গুলের ইশারায় এবং খৃস্টানদের সালাম হলও হাতের ইশারায় আর তোমরা গোঁফ ছোট করবে এবং দাড়ি বড় করবে।

তিরমিযি ৫/৫৬, সহিহুত তারগীব ৩/২৩

সালাম ও সালামের জবাব

সূরা নিসা আয়াত নং ৮৬ থেকে আমরা জানতে পারি সালামের জবাব দেয়া-

১) সালামের চেয়ে উত্তম

২) সালামের জবাব কমপক্ষে সালামের সমান দেওয়া

কেউ যদি বলে – আস-সালামু আলাইকুম

অথবা ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

বা  ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতু

শুদ্ধভাবে সালাম দিতে হবে এবং তার জবাবও শুদ্ধভাবে দিতে হবে।

আমরা হাদিস থেকে আমরা পাই

আরবি-১০

মু’আবিয়া ইবনে কুররা বলেন- আমার পিতা একদা আমাকে বলিলেনঃ বৎস যখন কোন ব্যক্তি তোমার নিকট দিয়া অতিক্রমকালে তোমাকে বলে “আসসালামু আলাইকুম” তখন তুমিও আলাইকা (এবং তোমার উপর) বলিও  না, কেননা, ইহাতে মনে হয়, তুমি কেবল তাহাকেই বুঝি সালাম দিতেছ, অথচ সে একা নহে, বরং তুমি বলিবে “আসসালামু আলাইকুম”।

আল –আদাবুল মুফরাদ হা. ১০৫০ পৃ.৪৬৩

যাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না-

ফাসিক ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া যাবে নাঃ

আরবি ১১

হযরত  আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আম ( রা) বলেনঃ তোমরা মদ্যপায়ী ব্যক্তিকে সালাম দিবে না।

আল-আদাবুল মুফরাদ, হা. ১০৩০

আরবি১২

হযরত কাতাদা ( রা) বলেন, হযরত হাসান ( রা) হইতে রিওয়াত করেন যে, তিনি বলিয়াছেন; তোমরা ও ফাসিক (আনাচারী পাপাসক্ত) ব্যক্তি মধ্য স্মমানের কোন সম্পর্ক থাকে না।

আল আদাবুল মুফরাদ হা.১০৩১

অমুসলিমকে সালাম দেওয়ার নিয়ম

অমুসলিমকে আগে সালাম দেওয়া যাবে না। যদি তারা সালাম দেয় তাহলে তার জবাব দিতে হবে-

হাদিস থেকে আমরা পাই

আরবি ১৩

আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন-ইয়াহুদী খৃস্টানদেরকে প্রথমে সালাম দিবে না। যখন পথিমধ্যে তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে পথের একপ্রান্ত দিয়ে যেতে বাধ্য  করো। 

মুসলিম ৫৪৭৬ (ই.ফা.বা)  , তিরমিজি২ ৭০০, আবু দাউদ ১৪৯, আহমাদ  ৭৫১৩,৭৫৬২, ৮৩৫৬, ৯৪৩৩, ৯৬০৩, ১০৪৪১৮,

নীচের হাদিস থেকে আমরা অমুসলিমদের সালামের জবাব কিভাবে দিবো সেটা দেখতে পাই –

আরবি ১৪

আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সা বলেছেন, কিতাবধারীরা (ইয়াহুদী, খৃস্টানরা) যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা জবাবে বল, ওয়া আলাইকুম।

সহীহ বুখারী ৬২৫৮,৬৯২৬( তাওহীদ পাবলিকেশন), মুসলিম ২১৬৩, তিমিজি ৩৩১১, আবু দাউদ ৫২০৭, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭, আহমাদ ১১৫৩৭,১১৭০৫,১১৭৩১,১২০১৯,১২৫৮৩,১২৬৭৪,১৩৩৪৫

মুসলিম ও অমুসলিমের সভায় সালাম দেওয়ার নিয়ম

যদি মুসলিম ও মুশরিক থাকে তাহলে তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে।

আমরা হাদিস থেকে তার প্রমান পাই-

আরবি ১৫

উসামা (রা) হতে বর্ণিত নবী সা এমন সভা অতিক্রম করেন যার মধ্যে মুসলিম , মুশরিক (মূর্তিপূজক) ও ইয়াহুদীর সমাগম ছিল। নবী সা তাদেরকে সালাম করলেন।

সহীহ বুখারী ৬২৫৪ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)  মুসলিম ১৭৯৮, তরমিজি ২৭০২, আহমাদ ২১২৬০।  

খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া যাবে কিনা

আমাদের সমাজে আজ যে কেউ শরীয়তের যে কোন বিষয়ে যে কাউকে প্রশ্ন করলে সাথে জবাব পাওয়া যায়। সবাই যেন আলেম হয়ে বসে আছে অথচ দেখা যাবে ঐ ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করেনি। সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ধারণা খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া যাবে না।

ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) তার” হাদীসের নামে জালিয়াতি ‘’ বইয়ের ৬৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

সাখাবী , মোল্লা কারী ও আজলুনী বলেন, হাদীসে এ কথার অস্তিত্ব নেই। তবে যদি কারো মুখের মধ্যে খাবার থাকে, তাহলে তাকে সালাম না দেওয়া ভাল। এ অবস্থায় কেউ সালাম দিলে উত্তর প্রদান ওয়াজিব নয়। ০১

০১ – সাখাবী আল্‌ মাকাসিদ, পৃষ্ঠা ৪৬০; মোল্লা আলী কারী ,আল –আসরা্‌ পৃষ্ঠা ২৬৫; আজলুনী, কাশফুল খাসা, ২/৪৮৮; যারকানী, মুখতাসারুল মাকাসিদ, পৃষ্ঠা২০৩।      

সালাম মুসলমানের বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রতীক। সালামের মাধ্যে পরস্পরের সম্পর্ক অধিক নিকটবর্তী হয়। মুসলমানের ভ্রাতৃতিতের বন্ধন অটুট রাখতে সালামের বিকল্প নেই। তাই আমদের সবার উচিত সমাজে বেশি বেশি সালামের প্রচলন এবং সালামে দেওয়ায় উৎসাহ করা। আমদের সবাইকে আল্লাহ্‌ সালামের গুরুত্ব বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *